১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

কবি গোলাম মোস্তফা বাংলা সাহিত্যের এক ধ্রবতারা

বাংলা বারুদ
প্রকাশিত অক্টোবর ১৪, ২০২৫, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
কবি গোলাম মোস্তফা বাংলা সাহিত্যের এক ধ্রবতারা

Manual5 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি।

বাংলা সাহিত্যে মুসলিম জাগরণের কবি হিসেবে সমধিক পরিচিত কবি গোলাম মোস্তফার জন্ম ১৮৯৭ সালে যশোরের শৈলকূপায়।

তিনি মুসলিম রেঁনেসার কবি নামে পরিচিত হলেও, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অনন্যতা স্থাপন করেছেন। মুসলিম জাগরণের অগ্রদূত কবি গোলাম মোস্তফার অবদান বাংলা সাহিত্যে এক বিরল দৃষ্টান্ত। স্কুল জীবনেই তার সাহিত্য প্রতিভার বিকাশ ঘটে। এ সময় মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায় তার ‘আর্দ্রিয়ানোপল উদ্ধার’ কবিতাটি প্রকাশিত হয়।

Manual3 Ad Code

তার প্রথম কাব্য গ্রন্থ ‘রক্ত রাগ’ প্রকাশিত হলে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নীচের দু’লাইন কবিতার মাধ্যমে কবি গোলাম মোস্তফাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন – “তব নব প্রভাতের ‘রক্ত রাগ’ খানি মধ্যাহ্নে জাগায় যেন জ্যোতির্ময়ী বাণী।”

Manual6 Ad Code

তার পরবর্তী গ্রন্থাবলীর মধ্যে ‘হাসনাহেনা’, ‘খোশরোজ’, ’সাহারা, ‘বুলবুলিস্তান’ ও ‘রূপের নেশা’ ‘ভাঙ্গাবুক’ ‘এক মন একপ্রাণ’ ইত্যাদি উপন্যাসগুলি বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। অনুবাদক হিসেবেও কবি গোলাম মোস্তফা বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। আরবী ও উর্দু সাহিত্য হতে ‘ইখওয়ানুস সাফা’, ‘মুসাদ্দাস-ই-হালী’,- ‘কালাম-ই-ইকবাল’, ‘শিকওয়া’ ভাষান্তরিত করে বাংলা সাহিত্যকে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন।

এছাড়া তিনি ‘আল-কুরআন’ এরও বাংলা অনুবাদ করেন। চিন্তামূলক ও যুক্তিবাদের উপর লিখিত ‘ইসলাম ও কমিউনিজম’, ‘ইসলামে জেহাদ’, ‘আমার চিন্তাধারা’, গ্রন্থগুলি তার গভীর চিন্তাধারার জ্ঞানলব্ধতার ফসল।

Manual7 Ad Code

কবি গোলাম মোস্তফার ‘বিশ্বনবী’ একটি আশ্চর্য রকমের সফল সৃষ্টি। এই অমর গ্রন্থখানি গদ্যে রচিত হলেও সে গদ্যও কবিতার মত ছন্দময় এবং মধুর। গ্রন্থখানা বিশ্বনবী হয়রত মুহম্মদ সা. এর একটি সার্থক জীবন চরিত।

গ্রন্থটিতে হৃদয়ের আবেগ, আন্তরিক অনুভূতি যে ভাবে বর্ণিত হয়েছে তার তুলনা আমাদের বাংলা সাহিত্যে নিতান্তই বিরল। সঙ্গীতের ক্ষেত্রেও তার উল্লেখযোগ্য প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায়। গায়ক ও গীতিকার হিসেবে তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

বিশেষ করে ইসলামী গান, গজল ও মিলাদ মাহফিলের বিখ্যাত ‘কিয়ামবাণী’ রচনায় তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়। তিনি তার কর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ সিরাত-ই-ইমতিয়াজ উপাধি লাভ করেন। বাংলা সাহিত্যের এই অমর সাধক কবি ১৯৬৪ সালের ১৩ অক্টোবর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

Manual6 Ad Code