১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১০ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

বিচ্ছিন্ন দ্বীপ জেলায় আশার আলো দেখাচ্ছে ভোলা-বরিশাল সেতু

বাংলা বারুদ
প্রকাশিত মে ১২, ২০২৫, ০১:৫২ অপরাহ্ণ
বিচ্ছিন্ন দ্বীপ জেলায় আশার আলো দেখাচ্ছে ভোলা-বরিশাল সেতু

Manual2 Ad Code

ফকির হাসান, বরিশাল থেকে ফিরেঃ-

আশার আলো দেখাচ্ছে ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের ভোলা-বরিশাল সেতু। এটি হলে বদলে যাবে ভোলার প্রায় ২২ লাখ মানুষের জীবনমান। আর সেতুর সুবাদে প্রথমবারের মতে সারাদেশের সঙ্গে সড়ক পথে সরাসরি যোগাযোগ সৃষ্টি হবে ভোলার। মুছে যাবে ‘বিচ্ছিন্ন দ্বীপ জেলা’র উপাধি। তবে কোনো আশ্বাস নয়, দ্রুত সেতুর কাজ শুরুর দাবি জেলাবাসীর।

ভোলার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলা। জেলার সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগের একমাত্র পথই নৌপথ। সরাসরি সারা দেশের সঙ্গে সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে রয়েছে ভোলাবাসী।

Manual4 Ad Code

তারা জানান, ভোলা জেলা প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধশালী হলেও হাতেগোনা ছোট বড় মিলে ৩-৪টির বেশি শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি। যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানান কারণে শিল্প উদ্যোক্তারা আগ্রহী হননি ভোলায় শিল্পকারখানা করতে। তাই ভোলার উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরেই ভোলা-বরিশাল সেতুর দাবি জানিয়ে আসছিল জেলাবাসী। কিন্তু গড়ে ওঠেনি সেই স্বপ্নের সেতু। গত ৮ মে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. শেখ মইনউদ্দিন ও সেতু বিভাগের সচিব মো. আবদুর রউফ ভোলা সফরে এসে ভোলা-বরিশাল সেতুর স্থান পরিদর্শন করেন। এতে করে নতুন করে আবারো স্বপ্ন দেখাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত ভোলা-বরিশাল সেতু।

Manual6 Ad Code

বন্যায় ভেঙে গেছে সেতু, ঠিক হয়নি ৯ মাসেও
ক্যাবল সংকটে বন্ধ দুই সেতুর নির্মাণ কাজ, হতাশ এলাকাবাসী
ড্রামে তৈরি ভাসমান সেতুতে দুঃখ ঘুচলো ২০ হাজার মানুষের বাড়ি বরিশালে। চাকরির সুবাদে তারা ভোলায় বসবাস করছেন। জেলাটি অনেক সুন্দর হলেও সন্ধ্যার পর লঞ্চ ও স্পিডবোট চলে না। তাই তাদের যদি জরুরিভাবে সন্ধ্যার পর বরিশাল যেতে হয়, তখন চরম ভোগান্তি ও বিপাকে পড়তে হয়।

যানবাহন চালকরা জানান, ভোলার সঙ্গে সরাসরি কোনো সড়ক যোগাযোগ নেই। বাস ও ট্রাক নিয়ে আসা-যাওয়ার একমাত্র পথই হলো ভোলার ভেদুরিয়া ও বরিশালের লাহারহাট ফেরি সার্ভিস। তাও আবার ফেরিঘাটে গিয়ে অপেক্ষা করতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কখনো বিকেলে ফেরিঘাটে পৌঁছালে পরের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। যদি ভোলা-বরিশাল সেতু হয়, তাহলে আর অপেক্ষা করতে হবে না। ভোলা থেকে ৩০-৪০ মিনিটের মধ্যেই বরিশাল পৌঁছানো যাবে।

Manual6 Ad Code

আরও অনেকে জানান, ভোলা-বরিশাল সেতু, সরকারি মেডিকেল কলেজসহ নানান দাবি বিগত সরকারের আমল থেকেই করে আসছেন তারা। ওই সরকার তাদের শুধু আশ্বাস দিতে এবং আন্দোলন দমনের চেষ্টা করতো। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও শুধু আশ্বাস দিচ্ছে। কিন্তু তারা আর আশ্বাসে বিশ্বাসী না।


ভোলার সচেতন নাগরিক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা জানান, পদ্মা সেতু করা হয়েছে ভোলাসহ ২১ জেলার সহজ যোগাযোগের জন্য। কিন্তু পদ্মা সেতুর সুবিধা ভোলাবাসী পায়নি। কারণ ভোলা একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। ভোলায় প্রচুর গ্যাস থাকা সত্ত্বেও শিল্পকারখানা গড়ে মানুষের কর্মসংস্থান হয়নি।

তারা আরও জানান, ভোলা থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস, ইলিশ, ধান, গমসহ বিভিন্ন শষ্য সারাদেশে গেলেও ভোলাবাসী তেমন কিছুই পাচ্ছে না। ভোলা-বরিশাল সেতু হলে সারাদেশের সঙ্গে আমাদের সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা হবে। উন্নয়নের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে ভোলায়। সেতু হলে একে একে গড়ে উঠবে শিল্পকারখানা। তখন ভোলাসহ সারাদেশের হাজার হাজার মানুষ এখানে চাকরি করবে। তাই আমরা বর্তমান সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, ভোলা-বরিশাল সেতু অধিক গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত নির্মাণ করার জন্য।

Manual6 Ad Code

তবে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. শেখ মইনউদ্দিন তখন জানিয়েছিলেন, ভোলা-বরিশাল সেতুটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হবে। এটির কাজ হয়ত জানুয়ারির মধ্যে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আমরা তারিখ ও মাস এখন সঠিকভাবে বলতে পারবো না। একুটু বলতে পারি ভোলা-বরিশাল সেতু হবে।

সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রউফ জানান, ভোলা-বরিশাল সেতুটি প্রায় ১১ কিলোমিটারের হবে। ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এটি আরও বাড়তে পারে কিংবা কমতেও পারে।