১৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩০শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ডিজেল সংকটে জমি সেচে বিপাকে নাটোরের কৃষক, ফসলে ক্ষতির আশঙ্কা

editor
প্রকাশিত মার্চ ১৮, ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ণ
ডিজেল সংকটে জমি সেচে বিপাকে নাটোরের কৃষক, ফসলে ক্ষতির আশঙ্কা

Manual5 Ad Code

ডিজেল সংকটে জমি সেচে বিপাকে নাটোরের কৃষক, ফসলে ক্ষতির আশঙ্কা

শেখ স্বপ্না শিমুঃ নাটোরে সেচ পাম্প চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল মিলছে না। এতে ফসলের সেচে বাধা পড়ছে। কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন, গ্রামে এজেন্টরা সামান্য পরিমাণে ডিজেল দিলেও অনেক পাম্প মালিক চাহিদা মতো সরবরাহ করছেন না। পাম্প মালিক ও এজেন্টদের দাবি, তারা চাহিদার অর্ধেকেরও কম ডিজেল দিতে পারছেন।

Manual2 Ad Code

নাটোর জেলায় বিদ্যুৎ চালিত প্রায় ৬ হাজার সেচ পাম্প বর্ষার মৌসুমে সমস্যাহীন সেচ দিচ্ছে। তবে ৩৯ হাজার ২০০ ডিজেল চালিত সেচ পাম্পের কৃষকরা বিপাকে রয়েছেন। জেলার ৩২টি তেল পাম্প ও ২৫ জন এজেন্টের কাছে তারা চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল পাচ্ছেন না। ডিজেল না পাওয়ায় অনেক কৃষক সেচ পাম্প বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গ্রামে এজেন্টরা সামান্য ডিজেল দিলেও অনেক পাম্প মালিক সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন। কিছু পাম্প মালিক নোটিশ দিয়েছেন, গ্রামে বিভিন্ন পাত্রে ডিজেল দেয়া হবে না। কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহের দাবি জানাচ্ছেন। সদর উপজেলার কৃষক রফিক বলেন, ডিজেলের সংকটের কারণে গত তিন দিন ডিজেল পাইনি। ফলে সেচ পাম্প বন্ধ রেখেছি।

Manual2 Ad Code

ঢাল সড়ক এলাকার শামীম বলেন, ৪টি পেট্রল পাম্পে গিয়েও ডিজেল পাইনি। শহরের হাফরাস্তা পাম্পে গিয়ে মাত্র ২ লিটার ডিজেল পেয়েছি। এই ২ লিটার না পেলে ভুট্টার জমিতে সেচ বন্ধ রাখতে হতো।সদর উপজেলার ছাতনীর হেলাল বলেন, সপ্তাহে ৫ দিন সেচ দিতে ১০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। গ্রামে ডিজেল না পেয়ে শহরের স্টেশন বাজারে এসেছি, কিন্তু যানবাহন ছাড়া ডিজেল দেয়া হচ্ছে না, বিপাকে পড়েছি।

Manual5 Ad Code

সিংড়ার এজেন্ট মহেশ্বর জানিয়েছেন, চাহিদার অর্ধেকেরও কম তেল পাচ্ছি। সেই অনুযায়ী কৃষকদের দেয়া হচ্ছে।নাটোর জেলা পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, জেলার ৩২টি পেট্রল পাম্প ও ২৫ জন এজেন্টকে তেল কম সরবরাহ করা হচ্ছে। এজন্য যানবাহনসহ কৃষকদের ঠিকমতো তেল দিতে পারছি না।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, চলতি বছর জেলায় প্রায় দেড় লাখ হেক্টর জমিতে বোরো মৌসুমের ফসল আবাদ হয়েছে। ফসল উৎপাদন ব্যাহত না হয় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ করতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।বোরো মৌসুমের ফসল আবাদে জেলার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বিএডিসি

Manual4 Ad Code