২১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

কম খরচে বেশি লাভ, কালোজিরা চাষে ঝুঁকছেন সাতক্ষীরার চাষিরা।

editor
প্রকাশিত মার্চ ২০, ২০২৬, ০৯:৪৯ অপরাহ্ণ
কম খরচে বেশি লাভ, কালোজিরা চাষে ঝুঁকছেন সাতক্ষীরার চাষিরা।

Manual2 Ad Code

কম খরচে বেশি লাভ, কালোজিরা চাষে ঝুঁকছেন সাতক্ষীরার চাষিরা।

শেখ স্বপ্না শিমুঃ মাত্র চার মাসের ফসল হলেও ঔষধি গুণে সমৃদ্ধ কালোজিরার চাষে সাড়া ফেলেছেন সাতক্ষীরার কৃষকরা। একই সঙ্গে কালোজিরার ক্ষেতগুলোতে বসানো মৌমাছির বাক্স থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে মূল্যবান মধু। মৌমাছির পরাগায়নের ফলে কালোজিরার ফলন যেমন বেড়ে যাচ্ছে, তেমনি উৎপন্ন হচ্ছে খাঁটি মধু।
কম খরচে বেশি লাভ, কালোজিরা চাষে ঝুঁকছেন সাতক্ষীরার চাষিরা।

সাতক্ষীরায় কালো দানার ভেতর লুকানো ঔষধি গুণে ভরা কালোজিরা চাষ দিন দিন বাড়ছে। রবিশস্য মৌসুমে কালোজিরার ক্ষেত যেন সাদা ফুলের গালিচা বিছানো মাঠে রূপ নিয়েছে। মৌমাছির গুনগুনিয়ে মধু সংগ্রহকালে বাতাসের দোলায় কৃষকের মনও আনন্দে ভরে যাচ্ছে।

মৌমাছির মধু সংগ্রহে পরাগায়ন হচ্ছে কালোজিরার ফুল, তাই সাতক্ষীরা জেলার কালোজিরার ক্ষেতগুলোতে সারি সারি মৌমাছির বাক্স রাখা হয়েছে। দিনরাত পরিশ্রম করছেন মৌচাষিরা।

প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৫ মন কালোজিরা উৎপাদন হয়। প্রতি মন কালোজিরার বাজার মূল্য প্রায় ১২ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকার কালোজিরা উৎপন্ন হচ্ছে। তবে সার ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধির কারণে প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ পড়ছে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। তারপরও মাত্র চার মাসে এক বিঘা জমি থেকে কৃষক উপার্জন করছেন প্রায় ৩০ হাজার টাকা। এ কারণে সরিষার চাষের পরিবর্তে কালোজিরা চাষে কৃষকরা বেশি উৎসাহিত হচ্ছেন।

Manual7 Ad Code

পাশাপাশি কালোজিরা চাষের সঙ্গে মৌমাছি চাষ করে কৃষকরা মূল্যবান ঔষধি মধু উৎপাদন করে বাড়তি আয়ও করছেন। তবে তাদের দাবি, সার ও কীটনাশকের দাম কমানো দরকার। এছাড়া সরকার যদি বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে, তাহলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হতে পারবেন বলে আশাবাদী।

Manual8 Ad Code

মধু চাষিরা জানান, সুন্দরবনের খলিসা মধুর পরই কালোজিরার মধু জনপ্রিয়। মৌচাষি হাতেম আলী বলেন, এখন আর শরিয়তপুর বা ফরিদপুর যেতে হয় না, ঘরে বসেই কালোজিরার মধু উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।

Manual4 Ad Code

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমা আক্তার বলেন, কালোজিরা একটি মসলাজাতীয় ঔষধি গুণসম্পন্ন ফসল। সরিষার মতো ফলন হলেও দাম তিন গুণ বেশি হওয়ায় কৃষকরা এই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। রোপা আমনের পরও কালোজিরা চাষ করে পাট চাষ করা যায়, তাই কৃষকরা এই চাষে ঝুঁকছেন। এছাড়া মধুর বাড়তি আয় ও পরাগায়নের কারণে ফলনও বাড়ছে।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা এখন লাভজনক কালোজিরার চাষ ও মধু উৎপাদনে আগ্রহী। মূলত অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ার কারণে চাষিরা কালোজিরা চাষে এগিয়ে এসেছেন।

Manual5 Ad Code

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১০০ হেক্টর জমিতে কালোজিরার চাষ করে কৃষকরা প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ করছেন।