১৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩০শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

শাহজাদপুরে দুগ্ধ শিল্পে নতুন সম্ভাবনা, দুধের ভালো দাম পাওয়ায় খুশি খামারিরাও

editor
প্রকাশিত মার্চ ১৮, ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ণ
শাহজাদপুরে দুগ্ধ শিল্পে নতুন সম্ভাবনা, দুধের ভালো দাম পাওয়ায় খুশি খামারিরাও

Manual8 Ad Code

শাহজাদপুরে দুগ্ধ শিল্পে নতুন সম্ভাবনা, দুধের ভালো দাম পাওয়ায় খুশি খামারিরাও

শেখ স্বপ্না শিমুঃ দুগ্ধ ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে এই প্রতিষ্ঠানগুলো দুধ থেকে মাঠা, লাবাং, ঘি, পনির, ছানা সহ নানা দুগ্ধজাত পণ্য তৈরি করে দেশব্যাপী বাজারজাত করছে। এতে ধীরে ধীরে এটি সম্ভাবনাময় শিল্পে পরিণত হয়েছে এবং অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। প্রান্তিক খামারিরা তাদের উৎপাদিত দুধের মাধ্যমে এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন।

Manual6 Ad Code

দেশের অন্যতম দুগ্ধ উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর। এখানে দেশের সবচেয়ে বড় গো-চারণ ভূমি রয়েছে। প্রায় ৩ লাখ গবাদি পশু থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। এর মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করে জাতীয় প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাসহ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

Manual7 Ad Code

আগে খামারিরা সমিতিভুক্ত হওয়ায় নির্ধারিত প্রতি লিটার ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় দুধ বিক্রি করতেন। এতে খামারিরা তাদের দুধের সঠিক দাম না পেয়ে লোকসান পরতেন। তবে এখন স্থানীয় উদ্যোক্তাদের হাতে গড়ে ওঠা প্রায় অর্ধশত দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তাদের সেই লোকসানের হাত থেকে রক্ষা করছে।

এখন রফিকুল ইসলাম স্বত্বাধিকারী ইনসাফ ডেইরির মাধ্যমে খামারিদের কাছ থেকে প্রতি লিটার দুধ ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংগৃহীত দুধ থেকে উৎপাদিত হচ্ছে উৎকৃষ্ট মানের মাঠা, লাবাং, ঘি, পনির, ছানা সহ বিভিন্ন পণ্য। উদ্যোক্তা কামরুল হাসান বলেন, ‘রমজানে আমাদের উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা ভালো। চাহিদা থাকায় খুচরা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে। ব্যবসা ভালো হওয়ায় খুশি এবং খামারিরাও দুধের ভালো দাম পাচ্ছেন।’

প্রাণী সম্পদ বিভাগও এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সরকারি আর্থিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দিচ্ছে। শাহজাদপুরের উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. বিল্লাল হোসেন জানান, স্থানীয় প্রায় অর্ধশত উদ্যোক্তার হাতে গড়ে উঠেছে এই দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। জেলা পর্যায়ে এই দুগ্ধ শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারি সহায়তা ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

Manual7 Ad Code

উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার লিটার মাঠা তৈরি করছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।

Manual5 Ad Code