৩০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১১ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

সীমানা পেরিয়ে মালয়েশিয়া-নেপালে যাচ্ছে দিনাজপুরের আলু।

editor
প্রকাশিত মার্চ ২৯, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
সীমানা পেরিয়ে মালয়েশিয়া-নেপালে যাচ্ছে দিনাজপুরের আলু।

Manual2 Ad Code

সীমানা পেরিয়ে মালয়েশিয়া-নেপালে যাচ্ছে দিনাজপুরের আলু।

শেখ স্বপ্না শিমুঃ উত্তম কৃষি চর্চা (জিএপি) অনুসরণ করে উৎপাদিত দিনাজপুরের ‘সানশাইন’ জাতের আলু দেশের সীমানা পেরিয়ে এখন আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিচ্ছে। মালয়েশিয়া, ভুটান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশে রফতানি হচ্ছে এই আলু। এতে একদিকে যেমন কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে দেশে আসছে বৈদেশিক মুদ্রা।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বিদেশে রফতানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে আলু।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের তরতবাড়ি গ্রামে উৎপাদিত হচ্ছে এই ‘সানশাইন’ জাতের আলু। এই কার্যক্রমে সার্বিক তদারকি করছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম। তার নিয়মিত পরিদর্শন ও পরামর্শে কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে আলু উৎপাদন ও সংরক্ষণে সফলতা অর্জন করছেন।

Manual1 Ad Code

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আলু বিদেশে রফতানি করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বীরগঞ্জ থেকে আরও ১০ থেকে ১৫ হাজার মেট্রিক টন আলু আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Manual8 Ad Code

রফতানির উপযোগী করে আলু অত্যন্ত যত্নসহকারে বাছাই ও প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। ‘দি এগ্রোনমি ইনিশিয়েটিভ এগ্রো’-এর তত্ত্বাবধানে সাড়ে তিন কেজি ওজনের কার্টুনে আলু প্যাকিং করা হচ্ছে। এছাড়া বিদেশি বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ৫ থেকে ১০ কেজি ওজনের ছোট ব্যাগেও প্রস্তুত করা হচ্ছে এই আলু।

এর আগে তরতবাড়ি পার্টনার ফিল্ড স্কুল (পিএফএস) এবং জিএপি আলু ও কৃষক সেবা কেন্দ্রের উদ্যোগে কৃষকদের ১০ দিনব্যাপী হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ফলে কৃষকরা উত্তম কৃষি চর্চা অনুসরণ করে মানসম্মত আলু উৎপাদনে সক্ষম হচ্ছেন।

Manual2 Ad Code

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এ উদ্যোগের মাধ্যমে তারা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। পাশাপাশি আলু বাছাই ও প্যাকিংয়ের কাজে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় অনেক পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে।

দি এগ্রোনমি ইনিশিয়েটিভ এগ্রো-এর মালিক সালমান রহমান বলেন, ‘তেল সংকট ও বাজারে আলুর কম দামের কারণে কৃষকরা অনেক সময় ন্যায্য মূল্য পান না। আমরা কৃষকদের পাশে থেকে তাদের উৎপাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছি।’

কৃষক মোতাহার হোসেন বলেন, ‘উত্তম কৃষি চর্চা অনুসরণ করে আমরা ভালো মানের আলু উৎপাদন করছি এবং কিছুটা লাভবান হচ্ছি। তবে বাজারে আলুর দাম কম থাকায় প্রত্যাশিত লাভ সবসময় পাওয়া যাচ্ছে না।’

Manual2 Ad Code

বীরগঞ্জের এই সাফল্য শুধু একটি উপজেলার নয়, বরং বাংলাদেশের কৃষি খাতের সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে কৃষিপণ্য রফতানির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।