৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

গাইবান্ধায় মসলা জাতীয় ফসল চাষে নতুন সম্ভাবনা, আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের।

editor
প্রকাশিত মার্চ ৩, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
গাইবান্ধায় মসলা জাতীয় ফসল চাষে নতুন সম্ভাবনা, আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের।

Manual2 Ad Code

গাইবান্ধায় মসলা জাতীয় ফসল চাষে নতুন সম্ভাবনা, আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের।

শেখ স্বপ্না শিমুঃ ইরি বোরো ও আমন ধানের জন্য পরিচিত গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা। তবে এখন শুধু ধান নয়, মসলা জাতীয় ফসল চাষে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। ধান নির্ভর দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর এবং বিদেশ থেকে আমদানি নির্ভরতা কমাতে মশলা জাতীয় ফসল চাষ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
গাইবান্ধায় মসলা জাতীয় ফসল চাষে নতুন সম্ভাবনা, আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের

Manual6 Ad Code

জানা গেছে, বছরের পর বছর সাঘাটার বিস্তীর্ণ জমিতে হতো ইরি-বোরো ও আমন ধানের চাষ। দুই ফসলের মাঝখানে দীর্ঘ সময় জমি পড়ে থাকতো অনাবাদি। এই অনাবাদি সময়কে কাজে লাগাতে উদ্যোগ নেয় উপজেলা কৃষি বিভাগ। লক্ষ্য-অনাবাদি সময় জমিকে কাজে লাগানো। ধানের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের মসলা জাতীয় ফসল চাষ বাড়ানো এবং কৃষকের আয় বাড়ানো।

Manual6 Ad Code

গত বছরের মতো এ লক্ষ্য নিয়ে চলতি মৌসুমে উন্নত প্রযুক্তি ও পরামর্শের ভিত্তিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জমিতে উন্নত জাতের রসুন চাষ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। যেসব জমিতে আগে শুধুই ধান হতো, সেখানে এবার মিলেছে আশানুরূপ ফলন। একই জমিতে রসুনের সঙ্গে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন শাক-সবজি। পতিত সময়ে জমির ব্যবহার, উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ লাভ হচ্ছে চাষিদের।

Manual6 Ad Code

তিন ফসলের উত্তোলন ও বপনের মাঝের সময়টুকুতেও জমি ফেলে রাখছেন না কৃষকরা। একই জমিতে চাষ করছেন মৌসুমী শাক-সবজি। ফলে বছরে এক বা দুই ফসলের জায়গায় এখন পাওয়া যাচ্ছে তিন বা তারও বেশি ফসল। এতে জমির উৎপাদনশীলতা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে কৃষকের আয় ও কর্মসংস্থান।

সাঘাটা উপজেলার পদুমশহর ইউনিয়নের টেপা-পদুমশহর গ্রামের কৃষক মো. লিমন সরকার জানান, পতিত সময়ে জমিকে কাজে লাগাতে পেরে কয়েকগুন লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। পাশাপাশি ধানের সঙ্গে মশলা জাতীয় অন্যন্য দামি ফসল উৎপাদন করতে পারছেন। আগে যা তারা কখনো চিন্তাও করেননি।

সাঘাটা উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আসাদুজ্জামান জানান, ধান নির্ভর দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করতে ও আমদানি নিরভরতা কমাতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নত বীজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়া হচ্ছে। কৃষিতে এই পরিবর্তন টেকসই হলে বদলে যেতে পারে গাইবান্ধার গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র।

Manual3 Ad Code

দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করতে চলতি অর্থ বছরে উপজেলা কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় ৩২ হেক্টর মশলা জাতীয় ফসলের চাষ করা হয়েছে।