১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১০ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

মাদকের বিরুদ্ধে দাওয়াতি কার্যক্রম চালাচ্ছে ‘মাদানী মজলিস’

বাংলা বারুদ
প্রকাশিত মে ১১, ২০২৫, ০১:৪৩ অপরাহ্ণ
মাদকের বিরুদ্ধে দাওয়াতি কার্যক্রম চালাচ্ছে ‘মাদানী মজলিস’

Manual8 Ad Code

আহমাদ জামিল : মাদকের কারণে সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে। ভেঙে যাচ্ছে পারিবারিক বন্ধন, নষ্ট হচ্ছে আস্থা-বিশ্বাস, পরিবার ও সমাজে তৈরি হচ্ছে আতঙ্ক।

বাংলাদেশে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার যেমন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে, ঠিক তেমনি আশার আলো হয়ে উঠছে কিছু সংগঠনের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা।

তেমনই একটি সংগঠন হলো আলেমদের তত্বাবধানে পরিচালিত ‘মাদানী মজলিস বাংলাদেশ’, যারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও নেশাজাত দ্রব্যের বিরুদ্ধে সামাজিক ও ধর্মীয় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

এই অরাজনৈতিক দাওয়াতি সংগঠনটি মাদকের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সচেতনতামূলক সভা, সেমিনার, প্রচারপত্র বিতরণ ও জনমত গঠনের কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে লক্ষ্য করে তারা যে কার্যক্রম চালাচ্ছে, তা দিন দিন আরও বিস্তৃত ও গতিশীল হয়ে উঠছে।

Manual7 Ad Code

সম্প্রতি রাজধানীর রামপুরা, মগবাজার ও সেগুনবাগিচা এলাকায় আয়োজিত বিভিন্ন আলোচনায় তারা তুলে ধরেছেন – মাদক কেবল একজন ব্যক্তি নয়, পুরো পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে।

এই সংগঠনের সভাপতি দেশের অন্যতম শীর্ষ আলেম, রাজধানীর মালিবাগ মাদ্রাসার ভাইস-প্রিন্সিপাল শায়খ মুফতি হাফীজুদ্দীনের নেতৃত্বে এই সংগঠনটি ‘মাদকাসক্তদের ঘৃণা নয়, সহমর্মিতা’ এই নীতি সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে।

জাতীয় পর্যায়ে তাদের কিছু প্রস্তাবনাও রাষ্ট্রীয় মহলে আলোচিত হয়েছে। যেমন,মাদক নিয়ন্ত্রণে ইমাম-খতিব, জনপ্রতিনিধি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে একটি জাতীয় কমিশন গঠন, লাইসেন্সধারী বার বা মদের দোকান পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি, তরুণদের পুনর্বাসনের জন্য ধর্মীয় ও মনোসম্মত কাউন্সিলিং।

এই অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম কেবল শহরে সীমাবদ্ধ নয়। গ্রামাঞ্চলেও তাদের প্রচারণা, ইসলামী জলসায় সচেতনতামূলক বক্তব্য এবং তরুণদের নিয়ে ইসলামিক প্রশিক্ষণ আয়োজনের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছে – মাদকবিরোধী লড়াই কেবল সরকারের একার কাজ নয়, সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও সম্মিলিত প্রয়াস দরকার।

এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে সংগঠনের সভাপতি শায়খ মুফতি হাফীজুদ্দীন দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সূর্যপুর গ্রামে সফর করেন।

ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা এই প্রত্যন্ত জনপদে শতাধিক যুবকের সামনে তিনি মাদক চোরাচালানের বিপদ তুলে ধরে এক গভীর ও হৃদয়স্পর্শী আহ্বান জানান।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, মদ, নেশা ও ইয়াবা ফেনসিডিল প্রতিরোধে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)- এর পাশাপাশি সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সচেতন যুবসমাজের সক্রিয় ভূমিকা আজ অত্যাবশ্যক হয়ে উঠেছে। কারণ, ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা অঞ্চল থেকে প্রায়ই মাদকদ্রব্য চোরাপথে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে, যা সমাজে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে।

তিনি আরো বলেন, সীমান্ত দিয়ে যেন কোনো মাদক আপনার অঞ্চলে প্রবেশ না করতে পারে, সেদিকে আপনাদের সর্বোচ্চ সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আপনারা যেন এই অপরাধের সহযোগী না হন বরং বিজিবির মতোই একজন সজাগ প্রহরীর দায়িত্ব পালন করেন – নিজের ঈমান, জাতি ও দেশকে রক্ষার জন্য।

Manual1 Ad Code

মাদানী মজলিস বাংলাদেশের মাদকবিরোধী কার্যক্রম নিছক কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়; এটি এক সুদূরপ্রসারী, নৈতিক ও দাওয়াতি আন্দোলন।

জাতীয় পর্যায়ে তাদের চিন্তাশীল প্রস্তাবনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে অন্তরস্পর্শী আহ্বান – দুটিই আজ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বিশেষত সীমান্তবর্তী তরুণদের কাছে পৌঁছে তারা শুধু সতর্কবার্তাই দেয়নি, দিয়েছে আত্মমর্যাদার ডাক। “আপনারা হোন বিজিবির মতোই প্রহরী ” এই একটি বাক্য যেন বদলে দিচ্ছে একেকটি তরুণ হৃদয়কে, একেকটি সীমান্তঘেঁষা পরিবারকে।

Manual6 Ad Code

এভাবেই এই সংগঠনের সভাপতি শায়খ মুফতি হাফীজউদ্দীনের নেতৃত্বে এ আন্দোলন দিন দিন বেগবান হচ্ছে এবং মানুষও তা আপন করে নিচ্ছে। শহর থেকে সীমান্ত পর্যন্ত গড়ে উঠছে একটি আত্মরক্ষামূলক বলয়, যেখানে মানুষ শুধু মাদককে ঘৃণা করবে না, বরং তাকে রুখে দাঁড়ানোর সাহসও ধারণ করবে।

Manual8 Ad Code