১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১০ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

ছাতকে গাছের ঢাল ও জুতা দিয়ে শিক্ষার্থী নির্যাতন করেন শিক্ষক

বাংলা বারুদ
প্রকাশিত নভেম্বর ১৫, ২০২৪, ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ছাতকে গাছের ঢাল ও জুতা দিয়ে শিক্ষার্থী নির্যাতন করেন শিক্ষক

Manual4 Ad Code

মীর ছাব্বির,স্টাফ রিপোর্টারঃ-

সুনামগঞ্জের ছাতকে একাধিক বিদ্যালয়ের ছাত্রদের নির্যাতনের ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহিন আহমদের বিরুদ্ধে।

 

বিদ্যালয়ের বারান্দা থেকে টেনে হেছড়ে ক্লাস রুমে নিয়ে স্কেল, পেয়ারা গাছের ডাল দিয়ে নির্যাতন করে ক্ষান্ত না হয়ে নিজের পায়ের জুতা দিয়ে শিক্ষার্থীদের শারিরিক নির্যাতন করেন ওই সহকারী শিক্ষক। তার এমন নির্মম নির্যাতনে দুই ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

Manual6 Ad Code

এ ঘটনায় উপজেলা জুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে। মানসিক বিকারগ্রস্থ ওই শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগি শিক্ষার্থীদের পরিবার।

 

জানা যায়, উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহিন আহমদ ২০১৫ সালে যোগদান করেন। এখানে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের শাসনের নামে শারিরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। তার অমানবিক নির্মম-নির্যাতন এবং নিপিড়নের শিকার হয়ে ইতো মধ্যে ওই স্কুল থেকে ঝড়ে পড়েছে অনেক শিক্ষার্থী।

Manual5 Ad Code

 

বিকৃতি মস্তিস্কের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কার্যত কোন প্রদক্ষেপ গ্রহণ না করায় দিনদিন নিপিড়নের মাত্রা বেড়েই চলছে। গত বুধবার বেলা ৩টার দিকে বিদ্যালয়ের বারান্দা থেকে ৭ম শ্রেনির ছাত্র মাহিন আহমদ ও রবিউল হাসান শাওনকে টেনে হেচড়ে ক্লাসে নিয়ে স্ট্রীলের স্কেল ও পেয়ারা গাছের ডাল দিয়ে তাদেরকে নির্যাতন করেন ওই শিক্ষক। এক পর্যায়ে নিজের পায়ের জুতা দিয়ে ছাত্র দুইজনকে তিনি পিটিয়ে আহত করেন। নির্যাতনে আহত মাহিন আহমদকে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার আহত শিক্ষার্থী মাহিন আহমদের মা, স্থানীয় হাসনাবাদ গ্রামের শাহেদ আলীর স্ত্রী হাছনা বেগম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওই অভিযোগের অনুলিপি জেলা ও উপজেলা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, ছাতক সেনা ক্যাম্প এবং ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরেও দেওয়া হয়েছে।

 

অভিযোগ উঠেছে, গত ৪দিন আগে ৭ম শ্রেনির ছাত্রী, স্থানীয় কালারুকা গ্রামের উপমা বেগমকেও শারিরিক নির্যাতন করেন ওই বিকৃতি মস্তিস্কের শিক্ষক শাহিন আহমদ। বিষয়টি সরী বলে ধাঁমাচাপা দেওয়া হয়েছে।

 

Manual6 Ad Code

 

Manual5 Ad Code

প্রায় ৩ বছর আগে ৭ম শ্রেনির শাহরিয়ার আহমদ সামি নামের আরেক শিক্ষার্থীকে বেদড়ক পিটিয়েছিলেন ওই শিক্ষক। যে কারণে সে লেখা পড়া ছেড়ে দিয়েছে। নির্যাতনকারী ওই শিক্ষকের নির্যাতনের ভয়ে এলাকার একাধিক শিক্ষার্থীরা ঝড়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হাই মোহাম্মদ কামাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শিক্ষক কর্তৃক এমন ভাবে নির্যাতন করা ঠিক হয়নি।

 

এটি খুবই দুঃখ জনক। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পুলিন চন্দ্র রায় বলেন, ওই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেন জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।