নকলমুক্ত পরীক্ষার কারিগর এবার পূর্ণ শিক্ষামন্ত্রী
শেখ স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ দুই দশক পর আবারও দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার হাল ধরছেন চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে জোট সরকারের আলোচিত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা এবার পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণের পর এই খবর কচুয়ায় পৌঁছালে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
আ ন ম এহসানুল হক মিলন নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় থেকেই সারা দেশে পরিচিতি পান পাবলিক পরীক্ষায় নকলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে। তার সেই সুখ্যাতি এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগের মূল্যায়ন হিসেবে এবার তাকে প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে শপথ নেয়ার মুহূর্ত থেকেই কচুয়া বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ শুরু হয়।
কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল আবেদীন স্বপন বলেন, ‘মিলন সাহেব দুই দশক আগে দেশের শিক্ষার মান ফেরাতে পরীক্ষাগুলোকে নকলমুক্ত করেছিলেন। এমন একজন ত্যাগী ও আদর্শবান মানুষকে আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়ায় শুধু কচুয়াবাসী নয়, পুরো দেশবাসী আনন্দিত।’
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আ ন ম এহসানুল হক মিলন ও তার সহধর্মিণী নাজমুন নাহার বেবি অন্তত ১৯টি রাজনৈতিক মামলার শিকার হন। দীর্ঘ সময় নিজ এলাকা থেকে অনেকটা নির্বাসিত থাকার পর গণতন্ত্রের এই নতুন ভোরে তার প্রত্যাবর্তনকে ‘মজলুমের বিজয়’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
বিএনপি নেতা শাহজালাল প্রধান বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলের দুঃশাসনে মিলন ভাই এলাকায় ফিরতে পারেননি। আজ গণতন্ত্রের মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে তার মন্ত্রিত্ব আমাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ আসনে ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৬২ ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হন মিলন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলের প্রার্থী মুহাদ্দিস আবু নছর মো. মুকবুল আহমেদ পেয়েছেন ৬৭ হাজার ভোট।
৭৯ বছর বয়সী এই প্রবীণ নেতার জীবন অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। কচুয়ায় জন্মগ্রহণকারী মিলন ও তার স্ত্রী নাজমুন নাহার বেবি দুজনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। আশির দশকে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং সেখানে শিক্ষকতা করেন। ১৯৯১ সালে দেশে ফিরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং ২০০১ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন।
রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও সাধারণ মানুষ মনে করছেন, মিলন পুনরায় দায়িত্বে আসায় এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান এবং অবকাঠামো উন্নয়নে আমূল পরিবর্তনের আশা করছেন স্থানীয়রা। মিলনের শতায়ু মা মাহমুদা হক এখনও বেঁচে আছেন, যা তার এই সাফল্যে স্থানীয়দের মাঝে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।