২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

কমবে গরম, বৃষ্টি হতে পারে আগামী ১০ দিন সারাদেশে

বাংলা বারুদ
প্রকাশিত মে ১২, ২০২৫, ১০:৫১ অপরাহ্ণ
কমবে গরম, বৃষ্টি হতে পারে আগামী ১০ দিন সারাদেশে

Manual2 Ad Code

বারুদ প্রতিবেদক : সারা দেশে কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হওয়ায় গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী ১০ দিন সারা দেশে হালকা থেকে মাঝারি বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে বৃষ্টি শুরু হতে পারে। এদিকে চলতি মাসের শেষ দিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে পারে নতুন একটি ঘূর্ণিঝড়। শ্রীলঙ্কার প্রস্তাবে এ ঝড়ের নাম হতে পারে ‘শক্তি’।

আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্বাভাসে জানিয়েছে, সোমবার (১২ মে) গোপালগঞ্জ, পটুয়াখালী ও কক্সবাজার জেলাসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু কিছু এলাকা থেকে প্রশমিত হতে পারে। মঙ্গলবার ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো বা বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে, সে সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এদিন সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

Manual4 Ad Code

 

সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৩৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার কিশোরগঞ্জের নিকলিতে সর্বোচ্চ ৯৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, সোমবার অনেক জায়গা থেকে তাপপ্রবাহ প্রশমিত হয়েছে এবং মঙ্গলবার আরও কিছু জায়গা থেকে তাপপ্রবাহ প্রশমিত হবে। তবে একেবারে চলে যাবে না। খুলনা অঞ্চলের কিছু কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে দাবদাহ থাকার আশঙ্কা আছে। মঙ্গল কিংবা বুধবার বৃষ্টিপাতের প্রবণতা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আমরা পূর্বাভাস দিয়েছি, আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।

 

Manual7 Ad Code

এদিকে বজ্রপাতের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো— বজ্রপাত হলে ঘরের মধ্যে থাকুন। জানালা ও দরজা বন্ধ রাখুন। সম্ভব হলে যাত্রা এড়িয়ে চলুন। নিরাপদ আশ্রয়ে আশ্রয় নিন। গাছের নিচে আশ্রয় নেবেন না। কংক্রিটের মেঝেতে শয়ন করবেন না। কংক্রিটের দেয়ালে হেলান দেবেন না। বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোর প্লাগ খুলে রাখুন। জলাশয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে উঠে আসুন। বিদ্যুৎ পরিবাহক বস্তু থেকে দূরে থাকুন। শিলাবৃষ্টির সময় ঘরে অবস্থান করুন।

Manual3 Ad Code

চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় : চলতি মে মাসের ২৪ অথবা ২৫ তারিখে বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়।

Manual6 Ad Code

ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ বলেন, ‘বর্তমানে আমরা একটি সম্ভাব্য নিম্নচাপের পূর্বাভাস পাচ্ছি। ২৪ থেকে ২৫ মের মধ্যে এটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কি না, তা এখন বলা যাচ্ছে না। তবে আশঙ্কা রয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ।’

বজলুর রশিদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, তাতে নিম্নচাপের আশঙ্কা আছে মোটামুটি ৭০ শতাংশ। আর এটি ঘূর্ণিঝড় হবে, এমন আশঙ্কা ৩০ শতাংশ। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার উপযোগী রয়েছে। তবে নিম্নচাপ তৈরি হলে সেটি কোথায় যাবে, কীভাবে শক্তি সঞ্চয় করবে, এসব বিষয় আরও কিছুদিন পর জানা যাবে।’

মে মাস সাধারণত ঘূর্ণিঝড়প্রবণ মাস হিসেবে পরিচিত। গত বছরের মে মাসেই ঘূর্ণিঝড় রিমাল সৃষ্টি হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছিল। গত বছরের ২৬ মে এ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে বাংলাদেশের উপকূলে। এবারও নিম্নচাপ ও সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের সময় কাছাকাছি। এর আগেও একাধিক বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় এ মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়েছে। তাই আবহাওয়াবিদরা এ সময় সতর্ক থাকতে বলছেন। এবার যদি ঘূর্ণিঝড় হয়, তবে এর নাম হবে ‘শক্তি’। নামটি শ্রীলঙ্কার দেওয়া।

আবহাওয়া অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে স্যাটেলাইট চিত্র পর্যবেক্ষণ করছে এবং নৌপরিবহন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগাম সতর্কবার্তা পাঠানো হচ্ছে বলে জানানো হয়। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নিম্নচাপের গঠন ও সম্ভাব্য গতিপথ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য জানা যাবে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।

এদিকে আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ সতর্ক করে বলেছেন, ২৩ থেকে ২৮ মে’র মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২৪ থেকে ২৬ মে’র মধ্যে এটি উপকূলে আঘাত হানতে পারে। ভারতের ওড়িশা উপকূল থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম উপকূল পর্যন্ত অঞ্চল এর আওতায় পড়তে পারে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলে আঘাত করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।