বিশেষ প্রতিনিধি:
ঢাকার মতিঝিল—রাজধানীর বাণিজ্যিক হৃদয়। ব্যাংক-বীমা, কর্পোরেট অফিস, ও শত শত চাকরিজীবীর পদচারণায় মুখর এই এলাকাটি এখন মাদকের ভয়াবহ ছোবলে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
দৈনিক বাংলা মোড়, ক্রীড়া ভবনের সামনে ও আশপাশের এলাকাগুলো যেন পরিণত হয়েছে এক ‘মাদক সাম্রাজ্যে’। অভিযোগ রয়েছে, ‘লালন’ নামের এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রী রুবিনা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তাদের ব্যবসা এতটাই বিস্তৃত যে, পল্টন ও মতিঝিল থানার একাধিক কর্মকর্তাকে মাসোয়ারা দিয়ে বছরের পর বছর ধরে নির্বিঘ্নে চালিয়ে আসছে রমরমা মাদক কারবার।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, লালন-রুবিনা কেবল মাদকই নয়, ছিনতাই, চুরি, এমনকি ডাকাতির পেছনেও অর্থ ও সন্ত্রাসী দিয়ে মদদ দিয়ে থাকেন। এলাকাবাসী আতঙ্কে, ক্ষুব্ধ কিন্তু নীরব। কারণ, অভিযোগ করেও মিলছে না কোনও প্রতিকার।
বিস্ময়কর তথ্য হলো—মাত্র এক বছর আগেও এই দম্পতি কাগজ-বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করত। কিন্তু হঠাৎই ‘বদলে যাওয়া ভাগ্যে’ তারা এখন দুটি বাড়ির মালিক, একাধিক মাদক স্পটের নিয়ন্ত্রণে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো—বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পবিত্রতার কাছাকাছিও গড়ে উঠেছে মাদকের স্পট, যা ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত হানছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একাধিকবার এই বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও, এখনও পর্যন্ত পল্টন ও মতিঝিল থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। প্রশ্ন উঠেছে—এত অভিযোগ, প্রমাণ, তবুও প্রশাসনের এই নিশ্চুপতা কেন?
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে এমন প্রকাশ্য মাদক সাম্রাজ্য সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অবিলম্বে লালন-রুবিনাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।