১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

পটুয়াখালীবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে ক্রয় মূল্যের সবজি বিক্রয়

বাংলা বারুদ
প্রকাশিত অক্টোবর ২৮, ২০২৪, ০৭:১০ অপরাহ্ণ
পটুয়াখালীবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে ক্রয় মূল্যের সবজি বিক্রয়

Manual5 Ad Code

টি আই অশ্রু, জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী: প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি কৃষি পণ্য ক্রয় করে পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন ঘনবসতি এলাকায় ক্রয় মূল্যে সবজি বিক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পটুয়াখালীবাসি নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

Manual6 Ad Code

বাজারের দাম যখন কোনভাবেই লাগাম টেনে ধরা জাচ্ছিল না ঠিক সেই সময়ে পটুয়াখালীর বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত পটুয়াখালীবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্রয় মূল্যে সবজি বিক্রয় শুরু করেছে।

রবিবার ২৭,২৮ শে অক্টোবর সকালে পটুয়াখালী শহীদ আলাউদ্দিন শিশু পার্ক মাঠে ও চহ্মু হাসপাতালের পিছনে এই কৃষি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন শিক্ষার্থীরা।

Manual4 Ad Code

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পটুয়াখালী শহরের চারপাশে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সবজি ক্রয় করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মূল্য তালিকা দিয়ে বিক্রয় করার জন্য প্রস্তুত করছেন।

Manual1 Ad Code

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা কৃষি পণ্য কিনে নিজেরা মাথায় করে নিয়ে আসেন বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে। ক্রয় মূল্যের পণ্য কিনতে বিক্রেতারা সিরিয়াল ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। যার যতটুকু প্রয়োজন সে ততটুকু ক্রয় করেন। তবে প্রতিটি পণ্য এক কেজি বা এক মুটির বেশি নয়।

লাউশাকের বাজার মূল্য ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা তবে এখানে বিক্রয় করছে ৪০ টাকায়। যেখানে পুইশাকের আটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এখানে স্বেচ্ছাসেবকরা বিক্রি করছেন মাত্র ২৫ টাকায়। একটি লাউ তারা ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করছে। কাঁচা কলা ৫ টা টাকা পিছ, পেঁপে ৪০ টাকা, সিসিঙ্গা ৫০ টাকা পটল ৫০ টাকা , ডিমের হালি ৪৮ টাকা।

Manual1 Ad Code

সংগঠনের সদস্য সাইদুর রহমান রাব্বি,,,, বলেন, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষজন জীবন চালাতে হিমশীম খাচ্ছে। বাজারের সকল পণ্যের দাম বেড়েই চলছে, আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা চেষ্টা করেছি প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের কাছ থেকে কৃষি পণ্য ক্রয় করে সেই একই দামে খুচরা বাজার বিক্রয় করতে। এতে করে কিছুটা হলেও পন্যের দাম কম পাবে ভোক্তারা।

পটুয়াখালীবাসী সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান রায়হান বলেন, বাজারে মালামালের দাম কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রন আনতে পারছে না সরকার, এজন্য আমরা স্বেচ্ছাশ্রমে বিভিন্ন কৃষকদের কাছ থেকে কৃষি পণ্য ক্রয় করে, কেনা দামে বিক্রয় করার উদ্যোগ নিয়েছি।

এতে করে আমরা অনেক সাড়া পেয়েছি এবং সাধারণ মানুষদের কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য কেনায় প্রতিটি পণ্যতে ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় মূল্যে পাচ্ছে ভোক্তারা।

উল্লেখ্য যে, পটুয়াখালীবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন বিত্তবানদের সহযোগিতা নিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এই জেলায় কাজ করছে। দেশের যে কোন ক্লান্তি লগ্নে তারা পাশে দাঁড়িয়ে থাকে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে।

এই সংগঠনের মাধ্যমে অনেক পরিবারের আয়ের পথ হয়েছে তাদের বিভিন্ন ছোট ছোট প্রজেক্ট এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে এছাড়াও বন্যাকবলিত এলাকায় প্রাণের সহযোগিতা সহ বিভিন্ন ধরনের স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই সংগঠনে প্রায় ৫০ জনের বেশি সদস্য রয়েছে যারা সব সময় পটুয়াখালী জেলার রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে কাজ করছে।