৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে?

editor
প্রকাশিত মার্চ ৩, ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে?

Manual1 Ad Code

যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে?

শেখ স্বপ্না শিমুঃ ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে গোটা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে ধাক্কা পড়লে তার প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এসব কারণে বাংলাদেশকে এমন অর্থনীতি গড়তে হবে যেখানে বিদেশ নির্ভরতা হবে গৌণ।

মধ্যপ্রাচ্য আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মাত্র নয় মাসের মাথায় ইসরাইল ও তার মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছে। এবারের হামলায় নিহত হয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। কূটনৈতিক আলোচনার মাঝেই এমন হামলায় ইরান হতবিহ্বল হয়। হামলার জবাবে দেশটি একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ছে। ইসরাইলের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছে।

এই উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোর মধ্যে অন্যতম হরমুজ প্রণালিতেও প্রভাব পড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রফতানির প্রায় ২০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে হয়ে থাকে। রুট বন্ধ থাকলে স্বাভাবিকভাবেই জ্বালানির দাম বাড়বে, যা সাধারণ ভোক্তাদের পকেটে প্রভাব ফেলবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের দেড় কোটি প্রবাসীর বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বসবাস করছেন। এই মানুষদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ার পাশাপাশি দেশে থাকা স্বজনদেরও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

Manual7 Ad Code

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ করতে হলে বাংলাদেশকে এমন অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে যেখানে বিদেশ নির্ভরতা কম। পররাষ্ট্র বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘আমাদের বড় করণীয় হলো কোনো একটি দেশের উপর নির্ভর না হয়ে নিজের অর্থনীতি গড়ে তোলা। একসময় আমরা সাহায্য নির্ভরতা কমিয়ে দুই শতাংশে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু পরে আমরা বাণিজ্য নির্ভরতায় চলে গিয়েছি। ডাইভার্সিফিকেশন দরকার। শুধু একটি বা দুটি পণ্য নয়, ১০-১২টি পণ্যের জন্য যথাযথ মানবসম্পদ ব্যবহার করতে পারলে চিন্তা নেই।’

Manual4 Ad Code

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, ইরানের অভিজ্ঞতা আমাদের শেখায় যে বাইরের বল প্রয়োগে যে পরিবর্তন আসে, তা টেকসই হয় না। ১৯৫৩ সালে নির্বাচিত মোসাদ্দেক সরকারকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন সরিয়ে শাহকে এনেছিল। তার প্রতিক্রিয়ায় ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লব সংঘটিত হয়।

Manual6 Ad Code

তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে তার অস্ত্র-নির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হতে হবে। তা না হলে পশ্চিমাদের অন্যায় যুদ্ধের চাপ বিশ্বকে মুক্তি দেবে না। হুমায়ুন কবির বলেন, প্রবাসী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তাদের নিরাপদে সরিয়ে আনতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে।

অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সের নতুন চাপের কাহিনি আবার সামনে এসেছে। এই চাপ মোকাবিলা করতে পারে শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সচেতন জনগণ, যা বড়ভাবে নির্ভর করবে তাদের প্রতিক্রিয়ার ওপর।

Manual8 Ad Code