১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১০ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব ও সুফল

বাংলা বারুদ
প্রকাশিত নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৯:৩৫ অপরাহ্ণ
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব ও সুফল

Manual1 Ad Code

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব ও সুফল

নিউজ ডেস্ক: সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম শর্ত হলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ন্যায়বিচারের বিকল্প নেই। মহান আল্লাহ বান্দাদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। নবীজির ছোঁয়ায় বদলে গেছে আরবের জাহেলি সমাজ। আশ্রয়হীন সমাজ আশ্রিত হয়েছে নীতিবান এক সমাজে। তিনিই গড়ে তুলেছেন ঘুণেধরা রাষ্ট্রকে একটি আদর্শ রাষ্ট্রে এবং সর্বত্রই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন।
নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফ, সদাচার ও নিকটাত্মীয়দের দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও সীমা লঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো। (সুরা নাহাল, আয়াত : ৯০)

এই আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের যেসব বিষয়ে আদেশ করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো,  ন্যায়পরায়ণতা অবলম্বন করা। সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা।  ঘর-পর সবার ব্যাপারে সুবিচার করা।

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের কাছের মানুষের ব্যাপারেও প্রভাবিত হতেন না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তিনি কখনো আপোস করেননি। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, মাখজুমি গোত্রের এক নারীর ব্যাপারে কুরাইশ বংশের লোকদের খুব দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল যে চুরি করেছিল। সাহাবিরা বললেন, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কে কথা বলতে পারবে? আর রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রিয়জন ওসামা (রা.) ছাড়া এটা কেউ করতে পারবে না। তখন ওসামা (রা.) রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কথা বললেন। এতে তিনি বললেন, তুমি আল্লাহর শাস্তির বিধানের ব্যাপারে সুপারিশ করছো? এরপর তিনি দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন এবং বললেন,

“হে মানবমণ্ডলী! নিশ্চয়ই তোমাদের আগের লোকেরা গোমরাহ হয়ে গিয়েছে। কারণ কোনো সম্মানী ব্যক্তি যখন চুরি করত তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যখন কোনো দুর্বল লোক চুরি করত তখন তার ওপর শরিয়তের শাস্তি বাস্তবায়ন করত। আল্লাহর কসম! মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেয়ে ফাতিমাও যদি চুরি করে, তবে অবশ্যই মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত কেটে দেবে। (বুখারি, হাদিস : ৬৭৮৮)”

Manual1 Ad Code

এই হাদিসে নবীজি (সা.) ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন, ইনসাফের প্রশ্নে ধনী-গরিব, প্রভাবশালী-দুর্বল সবাই সমান।

Manual1 Ad Code

 

সর্বত্র ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এতটাই ফজিলতপূর্ণ যে পরকালে ন্যায়পরায়ণ শাসককে জান্নাত দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ইবনে বুরাইদা (রা.) থেকে তাঁর পিতার সূত্র হতে বর্ণিত, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিচারক তিন প্রকার। এক প্রকার বিচারক জান্নাতি এবং অপর দুই প্রকার বিচারক জাহান্নামি। জান্নাতি বিচারক হলো, যে সত্যকে বুঝে তদনুযায়ী ফয়সালা দেয়।

“আর যে বিচারক সত্যকে জানার পর স্বীয় বিচারে জুলুম করে সে জাহান্নামি এবং যে বিচারক অজ্ঞতাপ্রসূত ফয়সালা দেয় সেও জাহান্নামি। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৫৭৩) ”

Manual4 Ad Code

অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কোনো বিকল্প নেই। ইসলামের প্রাথমিক যুগের ঘটনা। খলিফা হজরত ওমর (রা.) ও উবাই ইবনে কাব এক মামলার বাদী-বিবাদীরূপে আদালতে উপস্থিত হলে বিচারক জায়েদ ইবনে সাবেত (রা.) খলিফাকে বসার জন্য একটি আসন এগিয়ে দিলেন। খলিফা তার প্রতিবাদ করে বলেন, এটা আপনার প্রথম অন্যায়। অতঃপর তিনি বিচারকের সামনে বিবাদীর সঙ্গে একই সারিতে বসে পড়েন। এ ঘটনা থেকেই অনুমান করা যায় তখনকার বিচারব্যবস্থা কতটা স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ ছিল!

Manual7 Ad Code