৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদউল্লাহ স্বরণে

বাংলা বারুদ
প্রকাশিত অক্টোবর ২১, ২০২৫, ০৯:২৬ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদউল্লাহ স্বরণে

Manual4 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি

মোহাম্মদউল্লাহ ছিলেন আইনজীবী, রাজনীতিক ও বাংলাদেশের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি। জন্ম ১৯২১ সালের ২১ অক্টোবর লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সাইচা গ্রামে। পিতা মুনশী আবদুল ওয়াহাব ছিলেন একজন সমাজসেবক।

তিনি ১৯৩৮ সালে লক্ষ্মীপুর হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পাস করেন এবং ১৯৪৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে বিএ (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি কলকাতার রিপন কলেজ থেকে ১৯৪৮ সালে এলএলবি ডিগ্রি এবং ঐ বছরই পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন।

তিনি ১৯৫০ সালে ঢাকা জেলা কোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন এবং ১৯৬৪ সাল থেকে ঢাকা হাইকোর্টে আইন ব্যবসায়ে যোগ দেন।

মোহাম্মদউল্লাহ ১৯৫০ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগে যোগদান করেন এবং ১৯৫২ সালে পূর্ব বাংলা আওয়ামী মুসলিম লীগের দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি এ দলীয় পদে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বহাল ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয়দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে স্বায়ত্তশাসন আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং কয়েকবার কারাবরণ করেন।

Manual1 Ad Code

১৯৭০ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মোহাম্মদউল্লাহ মুজিবনগরে বাংলাদেশ সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে মোহাম্মদউল্লাহ ডেপুটি স্পীকার নির্বাচিত হন।

Manual6 Ad Code

স্পীকার শাহ আবদুল হামিদের মৃত্যুর পর তিনি ভারপ্রাপ্ত স্পীকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরে স্পীকার পদে নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সংসদের স্পীকার নির্বাচিত হন।

Manual1 Ad Code

মোহাম্মদউল্লাহ ১৯৭৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি এ পদে বহাল ছিলেন।

Manual6 Ad Code

এরপর তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভায় ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর তাঁকে প্রজাতন্ত্রের উপরাষ্ট্রপতি করা হয়। ১৯৮০ সালে মোহাম্মদউল্লাহ আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন।

১৯৮২ সালের ২৩ মার্চ রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার তাঁকে উপরাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ দান করেন। কিন্তু পরদিনই সেনাবাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করেন।

মোহাম্মদউল্লাহ ১৯৯১ সালে বিএনপির মনোনয়নে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি বিএনপি ত্যাগ করে পুনরায় আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ১৯৯৯ সালের ১১ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন।।