বিশেষ প্রতিনিধি।
শাসকদলের একজন বর্ষীয়ান নেতা ও সাবেক শিল্পমন্ত্রীর জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো কাটলো হাসপাতালের বিছানায়, হাতে পরানো হাতকড়া নিয়ে। তীব্র বিতর্ক এবং চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগের মধ্যেই কারাবন্দী সাবেক শিল্পমন্ত্রী এ্যাডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন (৭৫) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন।
আজ সোমবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। তবে তাঁর মৃত্যুকে ছাপিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় তুলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবি। ছবিতে দেখা যায়, হাসপাতালের বিছানায় নিথর দেহে পড়ে থাকা সাবেক এই মন্ত্রীর হাতে তখনও পরানো রয়েছে ধাতব হাতকড়া।
এই দৃশ্যকে ‘নৃশংস’ ও ‘অমানবিক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক সাবেক এই মন্ত্রীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, কারাগারে থাকা অবস্থায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে কিছুদিন আগে নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কিন্তু তাঁর পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগেই বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. আবু নোমান মো. মোসলেউদ্দিনের নির্দেশে তাঁকে জোর করে কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়, যা তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতির কারণ। হুমায়ূনের সমর্থকদের অভিযোগ, অতীতে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা ডা. নোমান রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এই কাজ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা বলেন, “এটি কোনো সাধারণ মৃত্যু নয়, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। একজন মুমূর্ষু রোগীকে হাতকড়া পরিয়ে রাখা কোন ধরনের সভ্যতা? এটি তাঁর প্রতি চূড়ান্ত অসম্মান।” বিএসএমএমইউ থেকে কারাগারে ফেরত পাঠানোর পরই হুমায়ূনের স্বাস্থ্যের অবনতি চরমে পৌঁছায়।
এরপর তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে সেখানেও তাঁর যথাযথ চিকিৎসা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর সমর্থকদের দাবি, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে তাঁকে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী ও হুমায়ূনের অনুসারীরা এই মৃত্যুকে “জামায়াত-শিবিরের এজেন্টদের দ্বারা সংঘটিত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তাঁরা বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের জীবনের শেষ পরিণতি যদি হাতকড়া পরা অবস্থায় হয়, তবে এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। এই ঘটনায় বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং কারাবন্দীদের মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
একজন সাবেক মন্ত্রীর সঙ্গে এমন আচরণ করা হলে সাধারণ কারাবন্দীদের অবস্থা কী, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তাঁরা এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।