বাগেরহাট হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি
শেখ স্বপ্না শিমুঃ বাগেরহাটে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়াসহ আবহাওয়াজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। হঠাৎ হাসপাতালে রোগীর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সরা।
রোগীর চাপে ফ্লোরেও জায়গা নেই।
আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। প্রতিদিন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে বাগেরহাট সদর জেলা ২৫০ শয্যা হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে যাচ্ছেন অভিভাবকরা।
হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তিন থেকে চার গুণ রোগী ভর্তি হওয়ায় শয্যা সংকটও দেখা দিয়েছে। ফলে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে। রোগির অভিভাবক ও স্বজনদের দাবি হাসপাতাল থেকে ওষুধ না পেয়ে চিকিৎসার সকল ওষুধ বাহিরের ফার্মাসি থেকে কিনতে হয়।
কচুয়া উপজেলার টেংরাখালী গ্রাম থেকে দেড় বছরের শিশু সন্তান ফাহিমকে নিয়ে হাসপাতালে আসা রহিমা বেগম বলেন, ‘সাতদিন আগে সর্দি-কাশিতে বাচ্চা আক্রান্ত হলে স্থানীয় ডাক্তারদের কাছ থেকে ওষুধ নিয়ে খাওয়াই। কিন্তু জ্বর না কমায় ৪ দিন আগে শিশুকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। এখন একটু ভালো। সব ওষুধ বাইরের ফার্মাসি থেকে কিনতে হয়।’
শরণখোলা থেকে ৬ মাসের শিশু সন্তান সাহাদবিন বশিরকে নিয়ে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি কারন বাবা মুফতি বশিউর রহমান বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে বাবু অসুস্থ থাকায় বাগেরহাট হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে সপ্তাহে ৩ দিন ডাক্তার পাওয়া যায়। শুধুমাত্র হাসপাতাল থেকে গ্যাস ছাড়া আর কিছু দেয় না। বাকি সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়। এদিকে তাদের মতো অনেক দূর থেকে আসা শিশু রোগীদের একই অবস্থা।’
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতাল সিনিয়র নার্স রহিমা খাতুন জানান, রোগীদের চাপ অনেক বেশি। মেঝে ও বারান্দায়ও চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে। কষ্ট হলেও তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমাদের হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহ কম। সে তুলনায় রোগির সংখ্যা বেশি।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতাল শিশু বিশেষজ্ঞ সিনিয়র কনসালট্যান্ট শিহান মাহমুদ জানান, হঠাৎ করে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়াসহ আবহাওয়াজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। এ অবস্থায় অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার কথা বলে জানান এই চিকিৎসক।
বাগেরহাট সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে গত এক সপ্তাহে দেড় হাজার শিশু রোগী চিকিৎসা নেয়। বর্তমানে ৪০ বেড়ের পরিবর্তে ৯৪ জন শিশু ভর্তি রয়েছে।