না ফেরার দেশে কথাসাহিত্যিক মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়।
স্বপ্না শিমুঃ সাহিত্য জগতে নেমেছে শোকের ছায়া। বাংলা সাহিত্যের বর্ষীয়ান কথাসাহিত্যিক মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়—যিনি ‘শংকর’ নামেই অধিক পরিচিত তিনি আর নেই। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
কথাসাহিত্যিক মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়।
১৯৩৩ সালের ৭ ডিসেম্বর জন্ম নেয়া শঙ্কর দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে বাংলা উপন্যাসকে দিয়েছেন এক স্বতন্ত্র উচ্চতা। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে কত অজানা রে, চৌরঙ্গী, সীমাবদ্ধ ও জন অরণ্য—যেগুলো বাংলা সাহিত্যে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।
চৌরঙ্গী উপন্যাসে তিনি মহানগর কলকাতার অন্তরালের অজানা জগত উন্মোচন করেন। জন অরণ্য মধ্যবিত্ত জীবনের সংগ্রাম ও নৈতিক সংকটকে গভীরভাবে তুলে ধরে, আর সীমাবদ্ধ কর্পোরেট জীবনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও মূল্যবোধের টানাপোড়েনকে নির্মোহভাবে উপস্থাপন করে। তার লেখায় শহর, সমাজ ও মানুষের অন্তর্জগত স্পষ্ট ও জীবন্ত হয়ে ওঠে।
শঙ্করের প্রয়াণে সাহিত্য অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে। বিভিন্ন মহল থেকে শোকবার্তা জানানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, বাংলার প্রখ্যাত সাহিত্যিক মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায় (শংকর)-এর প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তার প্রয়াণে বাংলা সাহিত্য জগতের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হল। ‘চৌরঙ্গী’ থেকে ‘কত অজানারে’, ‘সীমাবদ্ধ’ থেকে ‘জন অরণ্য’—তার কালজয়ী সৃষ্টিগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙালি পাঠককে মুগ্ধ করেছে।
তিনি আরও লেখেন, তার লেখনীর আঁচড়ে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের না-বলা কথা। বিশেষ করে স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে তার সুগভীর গবেষণা ও গ্রন্থসমূহ আমাদের কাছে অমূল্য সম্পদ। তার প্রয়াণ আমাদের সাংস্কৃতিক জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমি তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও অগণিত গুণগ্রাহীর প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই।