২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

তীব্র গ্যাস সংকটে শিল্প খাত, উৎপাদন কমায় রফতানিতে ভাটা!

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০২:১৩ অপরাহ্ণ
তীব্র গ্যাস সংকটে শিল্প খাত, উৎপাদন কমায় রফতানিতে ভাটা!

Manual3 Ad Code

তীব্র গ্যাস সংকটে শিল্প খাত, উৎপাদন কমায় রফতানিতে ভাটা!

শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও তীব্র গ্যাস সংকটে শিল্প খাত। চাহিদার তুলনায় মিলছে অর্ধেকেরও কম। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নতুন করে রফতানি আদেশ নেয়া কমিয়ে দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা। তিতাস বলছে, এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে তৈরি হয়েছে সংকট। মেরামত শেষ হলেও গ্যাসের লাইন পূর্ণ হতে সময় লাগবে আরও কিছুদিন।
তীব্র গ্যাস সংকটে শিল্প খাত, উৎপাদন কমায় রফতানিতে ভাটা!

গ্যাস সংকটে নাজেহাল অবস্থা শিল্প মালিকদের। এতে উৎপাদন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমে গেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় টেক্সটাইল ও পোশাক প্রস্তুতকারক এন জেড টেক্স গ্রুপের কর্ণধার ও বিটিএমএর সহ-সভাপতি সালেউদ জামান খান বলেন, কারখানায় প্রতিদিন ১২০ টন সুতা, ২ লাখ মিটার কাপড় রং এবং ২ লাখ মিটার ফিনিশড কাপড় তৈরি হয়। এর জন্য ১০ পিএসআই গ্যাস চাপ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মিলছে মাত্র ৪ থেকে ৫ পিএসআই। এতে উৎপাদন কমে গেছে।

তিনি আরও বলেন, রূপগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ এলাকায় গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। গ্যাস ছাড়া শিল্প এক মুহূর্তও চালানো সম্ভব নয়। তাই তিতাস ও পেট্রোবাংলাকে নতুন সরকারের সঙ্গে বসে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। নাহলে শিল্পের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে।

Manual6 Ad Code

গত দুই সপ্তাহ ধরে সরবরাহ কমতে কমতে ১৬ ফেব্রুয়ারি তা শূন্যে নেমে আসে। টানা ১২ ঘণ্টা কারখানা বন্ধ রাখতে হওয়ায় বড় অঙ্কের ক্ষতি হয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তারা। এন জেড টেক্স গ্রুপের কর্ণধার বলেন, ‘আমার নিজের কারখানা একদিন বন্ধ থাকলে প্রায় ৫ কোটি টাকার উৎপাদন বন্ধ থাকে।’

এদিকে, শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ, বিতরণ ও সংযোগের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান তিতাস বলছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্থাপিত ভাসমান দুই এলএনজি টার্মিনালের একটিতে মেরামতের কাজ চলায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে সরবরাহে। চাহিদা প্রায় চার হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট, ১৬ ফেব্রুয়ারি সরবরাহ নেমে আসে দুই হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট, ঘাটতি দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট।

তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস ডিভিশন) প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বলেন, চাহিদার তুলনায় এখনো মোট গ্যাস সরবরাহ কম রয়েছে। যখন চাহিদা বেশি কিন্তু সরবরাহ কম থাকে, তখন লাইনে গ্যাস জমিয়ে চাপ বাড়ানোর সুযোগ থাকে না। সাধারণত ছুটির দিনে বা শিল্প কারখানা বন্ধ থাকলে চাহিদা কমে যায়। তখন ধীরে ধীরে লাইনে গ্যাস জমে চাপ বাড়ে এবং গ্রাহকরা ভালোভাবে গ্যাস পান।

Manual2 Ad Code

তিনি আরও জানান, ধাপে ধাপে গ্যাসের চাপ বাড়ানো হচ্ছে। তবে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত গ্যাসের লাইন পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। কারণ কর্মদিবসে চাহিদা আগেই তৈরি হয়ে যায় এবং গ্রাহকরা নিয়মিত গ্যাস নিচ্ছেন। ফলে লাইনে গ্যাস জমে চাপ স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগছে।তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ঘাটতি মোকাবিলার প্রস্তুতি না রেখে টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু করায় সমন্বয়ের অভাব দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে ব্যবহারকারীদের ওপর।

Manual1 Ad Code

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, দুটি এলএনজি টার্মিনালের ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে যাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না তৈরি হয়। যদি এই দুটি টার্মিনাল থেকে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে বিকল্প বা অতিরিক্ত সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে, বিশেষ করে শিল্প খাতকে এগিয়ে নিতে হলে।

Manual3 Ad Code

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে ভাসমান দুই এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ করা হয় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।