১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

পাম্প অপারেটরের ছদ্মবেশে নিয়োগ-বাণিজ্যের রাজা! বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে শ্রমিকলীগ নেতার দুর্নীতির নগ্ন চিত্র

বাংলা বারুদ
প্রকাশিত আগস্ট ৩, ২০২৫, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
পাম্প অপারেটরের ছদ্মবেশে নিয়োগ-বাণিজ্যের রাজা! বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে শ্রমিকলীগ নেতার দুর্নীতির নগ্ন চিত্র

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক: 
জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিকলীগ (রেজি নং-১৯০২), সিবিএ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি এবং পাম্প অপারেটর বি পদে কর্মরত মোঃ মারুফুর রহমানের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও বিদ্যমান ঠিকাদারদের একাংশ দুধর্ষ দুর্নীতির চিত্র উন্মোচন করে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, এই ব্যক্তি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড তথা সরকারের কাঠামোতে বহুবছর ধরে নিরব লুট ও ক্ষমতার নগ্ন অপব্যবহারের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

Manual8 Ad Code

অভিযোগপত্রে উল্লিখিত তথ্যমতে, মোঃ মারুফুর রহমান ১৯৯৯ সালে পোষ্য কোঠায় এম.এল.এস কামগার্ড হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। এটি একটি ‘ব্লক ক্যাডার’ পদ হলেও, ২০০৫-২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় তিনি নিজ অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ বিধি-বহির্ভূতভাবে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজের পদ উন্নীত করেন পাম্প অপারেটর পদে। পরে, অস্বাভাবিক দ্রুততায় তাকে উন্নীত করা হয় “পাম্প অপারেটর-বি” পদে। অথচ বিদ্যুৎ বোর্ডের বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী, এমন পদোন্নতির কোনো সাংবিধানিক বা প্রশাসনিক বৈধতা নেই। নিয়োগ ও পদোন্নতির সংশ্লিষ্ট নীতিমালার কপি ইতোমধ্যে অভিযোগকারীরা সংযুক্ত করেছেন, ।

Manual1 Ad Code

আরও বিস্ময়ের বিষয় হলো—মোঃ মারুফুর রহমান আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগে পাম্প অপারেটর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন, যেখানে পাম্প অপারেটর পদের কোনো স্বীকৃত পদই নেই। বিভাগটিতে বাস্তবিক অর্থে পাম্প পরিচালনার কোনও কাজ না থাকলেও তিনি বছরের পর বছর কোনো দায়িত্ব না পালন করেই সরকারী অর্থ থেকে বেতন, ওভারটাইম ও ভাতা গ্রহণ করছেন। এসবই সম্ভব হয়েছে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও সিবিএ-নেতৃত্বের অপব্যবহারের মাধ্যমে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত মারুফুর রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ক্ষমতাসীন দলের সহায়তায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সিবিএ সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। কেন্দ্রীয় সিবিএ সভাপতি জহিরুল ইসলাম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি প্রায়শই ঢাকায় অবস্থান করে নিয়োগ-বাণিজ্য, বদলি সিন্ডিকেট ও প্রশাসনিক দুর্নীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা, নিজের অফিসে অনুপস্থিত থেকেও মাসের পর মাস কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই সরকারি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন, যা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ভেতরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ধ্বংসযজ্ঞের ইঙ্গিত বহন করে।

Manual7 Ad Code

 

বারংবার সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে রাজনৈতিক দল বদলে নিজেকে ক্ষমতাসীন বলয়ে স্থায়ী করে ফেলা মারুফুর রহমান এখন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অন্দরে ‘অদৃশ্য কর্তৃত্বের’ এক কর্ণধারে পরিণত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রমাণসহ যাবতীয় কাগজপত্র ইতোমধ্যেই সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে এসেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি জোর দাবি উঠেছে—সুনির্দিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে তার এই ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মহাসড়কে রুদ্ধহীন যাত্রার অবসান ঘটানো হোক।

Manual4 Ad Code

চলবে…