ক্রাইম রিপোর্টার:
রাজধানীর মুগদা থানায় ১৯ জুলাই এক কন্যা নিখোঁজ, জোরপূর্বক অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাত এবং পরিবারের প্রতি হুমকির অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানাধীন এলাকার এক ব্যক্তি ও তার পিতার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে মুগদা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী তরুণীর পিতা মোঃ আনসার মাতুব্বর।
অভিযোগে জানা যায়, জান্নাত আরা নামের ওই তরুণী গত ১০ জুলাই বিকাল ৫টার দিকে মুগদা এলাকার একটি বাসা থেকে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারেন যে, এনায়েতপুর থানার জালালপুর গ্রামের মোঃ জাহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি তরুণীকে ফুসলিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ফোনে জাহিদুল ইসলাম স্বীকার করেন যে, তিনিই জান্নাতকে এনায়েতপুরে নিয়ে গেছেন। তবে পরিবারের অনুরোধ সত্ত্বেও তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেননি।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার সময় তরুণীর পরনে থাকা ৮ আনার একটি স্বর্ণের চেইন ও ৪ আনার এক জোড়া কানের দুল এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি। অভিযোগে আরও জানানো হয়েছে, গত ২ মে তরুণী তার স্বামীর বাসা থেকে “ঘুরতে যাচ্ছেন” বলে বের হয়ে জাহিদুল ইসলামের প্ররোচনায় এনায়েতপুরে চলে যান এবং সেখানে এক মাসেরও বেশি সময় তাকে আটকে রেখে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়।
পরিবারটি ২৮ মে বংশাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে এবং এনায়েতপুর থানার সহযোগিতায় ১১ জুন তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম ও তার পরিবার তখন মীমাংসার আশ্বাস দিলেও পরে আর যোগাযোগ করেননি, বরং ১৫ জুলাই বিকেলে জাহিদুল ইসলাম একাধিকবার ফোন করে হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযুক্তের পিতা মোঃ জহির উদ্দিন এই ঘটনার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে মুগদা থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
নেওয়া হবে।