৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

ডিবি তদন্তেও দমে নেই সোহরাব বাহিনী: নাটোরে পঙ্গু শ্রমিকের জমি দখল করে সেই টাকায় মামলা লড়ছে ভূমিদস্যুরা

বাংলা বারুদ
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ডিবি তদন্তেও দমে নেই সোহরাব বাহিনী: নাটোরে পঙ্গু শ্রমিকের জমি দখল করে সেই টাকায় মামলা লড়ছে ভূমিদস্যুরা

Manual7 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার।

​সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ এবং তিন প্রতিবন্ধী সদস্যের পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন গার্মেন্টস শ্রমিক মো. মাসুদ রানা। নাটোরের গুরুদাসপুর ও সদর উপজেলায় দুটি প্রভাবশালী চক্রের করাল গ্রাসে নিজের কেনা বসতভিটা ও পৈত্রিক জমি হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব।

Manual4 Ad Code

আগামী ২০ জানুয়ারি মামলার শুনানির দিন ধার্য থাকলেও, প্রতিপক্ষের ভয়ে সাক্ষী ও বাদী খোদ মাসুদ রানা এখন জীবননাশের শঙ্কায় আদালতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।

​ডিবি তদন্তে সত্যতা মিললেও থামেনি দখলদারিত্ব ভুক্তভোগী মাসুদ রানার পৈত্রিক জমি গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা শিকারপাড়া গ্রামে, যা তার মা তাকে দিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেশী সোহরাব মন্ডল সেই জমিটি জবরদখল করে রেখেছেন।

ডিবি পুলিশের দীর্ঘ তদন্তে জমিটির প্রকৃত মালিক মাসুদ রানা বলে প্রমাণিত হয়েছে। ডিবি তাদের লিখিত প্রতিবেদনে সোহরাব মন্ডলকে একজন ‘পেশাদার দাঙ্গাবাজ ও লাঠিয়াল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

​মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, আগামী ২০ জানুয়ারি মামলার শুনানির দিন থাকায় সোহরাব মন্ডল ও তার বাহিনী সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। প্রতিপক্ষ দম্ভ করে বলছে, “মাসুদের জমি চাষাবাদের আয় দিয়েই আমরা ওর বিরুদ্ধে মামলা লড়বো।

Manual7 Ad Code

স্থানীয় মশিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল বারী কয়েকবার নোটিশ দিলেও সোহরাব মন্ডল তা তোয়াক্কা করেনি।
​নজরুলের জালিয়াতি ও মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানো অন্যদিকে, নাটোর সদরের হয়বতপুর মৌজায় মাসুদ রানা যে বসতবাড়িটি ক্রয় করেছিলেন, সেখানে প্রতারক নজরুল ইসলাম (গ্রাম: দিয়ারসাতুরিয়া) বড় ধরনের জালিয়াতি করেছেন। বাড়িটি বিক্রির আগে ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ নিলেও তা গোপন রেখে মাসুদের কাছে রেজিস্ট্রি করে দেন তিনি।

বর্তমানে নিজের কেনা বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়ে পঙ্গু মাসুদ রানা সপরিবারে অন্যের বাড়িতে আশ্রিত।

Manual8 Ad Code

​তিন প্রতিবন্ধীর আর্তনাদ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাসুদ রানা নিজে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী (আইডি নং- ১৯৮২৬৭৬১১২১৫১-০১)। তার কন্যা সাদিয়া পারভিন মুক্তা (শারীরিক ও হিমোফিলিয়া আক্রান্ত) এবং ৫-৬ বছরের পুত্র মো. আনাস ইকবাল আসিরও শারীরিক প্রতিবন্ধী। গত ৮ জানুয়ারি ছোট বোনের স্বামীর অকাল মৃত্যুতে সেই পরিবারের ভারও এখন এই পঙ্গু মাসুদের কাঁধে।
​নিঃস্ব মাসুদ রানা প্রশ্ন তুলেছেন, “সরকার যেখানে ভূমিহীনদের ঘর দিচ্ছে, সেখানে আমাদের মতো তিন প্রতিবন্ধীর পরিবারকে কেন নিজ বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হতে হচ্ছে?” অর্থাভাবে মামলা চালাতে অক্ষম মাসুদ রানা এখন সমাজসেবা অধিদপ্তর, লিগ্যাল এইড এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

Manual4 Ad Code