গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরে অপরাধ, অনিয়ম, দূর্নীতির বিরুদ্ধে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশের কারণেই পুলিশের যোগসাজশে ডিউটিরত পুলিশের সামনেই সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় আহত সাংবাদিক আনোয়ারের বিরুদ্ধেই গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ডাঃ নাজমুল করিমের মদদপুষ্ট অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রাজু সাহা @ রাজমণি সাহা রাজুকেই বাদী করে মিথ্যা চাঁদা বাজির মামলা করা হয়েছে।
গত ১৮ আগস্ট দৈনিক প্রলয় পত্রিকায় পত্রিকায় “জিএমপি কমিশনারের মদদপুষ্ট অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রাজু সাহা” এই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলাটি রুজু করা হয়েছে। সাংবাদিক আনোয়ার হলেন- জাতীয় দৈনিক প্রলয় পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার। উনি গাজীপুরে বসবাস করে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশে কাজ করে আসছেন।
জানা যায়, জয়দেবপুর রেলস্টেশনের উত্তর পাশে জয়দেবপুর এলাকায় রেলওয়ের মূল্যবান জমি একদল প্রভাবশালী দখলদাররা রেলওয়ের জমিতে অবৈধভাবে দোকানপাট, হোটেল, কাপড়ের মার্কেট, বাজার ইত্যাদি গড়ে তুলে স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা ও উদাসীনতায় রেলওয়ে পুলিশ, আরএনবি ও রেল স্টেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বৈষয়িকভাবে সন্তুষ্ট করেই নিয়মিত চাঁদা বাজি করছে। সেই সাথে বছরের পর বছর রেলের এই বিপুল পরিমাণ জমি অবৈধ দখলদারদের দখলেই রয়ে গেছে।
এসংক্রান্তে গত ০৬ আগস্ট দুপুর ৩ টার দিকে আনোয়ার সরেজমিনে তথ্য ও স্থিরচিত্র বা ফুটেজ সংগ্রহ করে দুপুরের খাবার খেতে হোটেলে যাওয়ার পথে সদর থানার এসআই কামরুল, এএসআই মোশাররফ সহ আরো ৭/৮ জন পুলিশের সামনেই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রক্তিম, সৌরভ, রাজমণি সাহা রাজু, ফরিদসহ অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জন আনোয়ারের উপর অতর্কিত হামলা করে তথ্য ও ফুটেজ রক্ষিত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। কিছুক্ষণ পর অচেতন অবস্থায় সদর থানার ওসি মেহেদী হাসান সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।
এসময় রাজমণি সাহা রাজুসহ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে পুলিশ গ্রেফতার করে ছেড়েও দেয়। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় আনোয়ারকে সদর থানার ওসি মেহেদী হাসান নিয়মিত আমার খোঁজখবর নিয়েছে।
এঘটনায় আনোয়ারের মা আনোয়ারা এজাহার দায়ের করলে সদর থানা পুলিশ গত ০৭ আগস্ট ১৫ নং মামলাটি রুজু করে। এঘটনায় সারাদেশে গণমাধ্যমকর্মীগণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে থাকে এবং দেশের অধিকাংশ ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিছুটা সুস্থ হয়ে পুনরায় হামলার আশংকায় আনোয়ার ময়মনসিংহে চলে যায়।
গত ১৮ আগস্ট প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রক্তিম, সৌরভ, রাজমণি সাহা রাজুসহ আরো ১৮/১৯ জন সন্ত্রাসী গত ০৭ অক্টোবর, ২০২৪ দুপুর পৌনে ২ টার দিকে প্রকাশ্যে গোলাগুলি করে হত্যা চেষ্টার অপরাধে পেনাল কোডের ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৪/৩২৬/ ৩০৭ ধারায় ১৩(১০)২০২৪ নং মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামী।
ঘটনার দিন জিএমপি সদর থানার স্থানীয় কৃপাময়ী কালি মন্দিরের সামনে সাহাপাড়া এলাকার সন্ত্রাসী রাজমনি সাহা রাজু, সাব্বির আহমেদ সৌরভ, রক্তিম প্রত্যেকে বিদেশী অবৈধ পিস্তল দিয়ে গুলি করে। এর ফলে সফিকুল ইসলাম টিটু ও পথচারী সাবেদ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। এসময় সন্ত্রাসীরা খুন করতে ধারালো রাম দা দিয়ে কোপ দিয়ে মনিরুল ইসলাম সাগর, মমিন, ওলিউল্লাহ তুহিনকে কাটা রক্তাক্ত গুরুতর আহত করে।
এঘটনায় তুহিনের স্ত্রী আরিফা আক্তার হাসি থানায় এজাহার দায়ের করলে মামলাটি রুজু হয়। মামলাটি দায়েরের পর ১০ মাসেও পুলিশ অলৌকিক কারণে কোন আসামী গ্রেফতার করে নি। এমনকি এই মামলার পলাতক আসামীরাই এই সাংবাদিকের উপর নৃশংস হামলা করেছিল।
পরবর্তীতে এবিষয়ে জানাজানি হলে সাথে সাথেই গত ১১ আগস্ট সন্ত্রাসীরা উচ্চ আদালত হতে ৬ সপ্তাহের জন্য আগাম জামিন প্রাপ্তির পর বেরিয়ে আসে থলের বেড়াল। গত বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে দেখা যায়, রাজু সাহাসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেরি পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে রয়েছে গভীর সখ্যতা।
এ ঘটনাটি বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বেশ জটিল এবং স্পর্শকাতর। এঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের পরস্পর যোগসাজশে আহত সাংবাদিক আনোয়ারকে ক্ষতি করতে চলতে থাকে নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার।
আদালত ও থানা সূত্রে জানা যায়, সদর থানার ১৩(১০)২০২৪ নং মামলার এজাহারনামীয় আসামী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রাজু সাহা @ রাজমণি সাহা রাজুকে বাদী বানিয়ে ১৮ দিন আগের অর্থাৎ গত ০২ আগস্টের মিথ্যা চাঁদা বাজির ঘটনা সাজিয়ে সাংবাদিক আনোয়ারকে আসামী করে মিথ্যা বানোয়াট মামলা দিয়ে আনোয়ারকে হেরেজ হয়রানির করার চেষ্টা করছে জিএমপি পুলিশ।
যদি গত ২ আগস্ট আনোয়ার চাঁদা দাবি বা এই অপরাধ করত চিকিৎসাধীন থাকাকালীন পুলিশ কেন আনোয়ারকে গ্রেফতার করে নি?? এসংক্রান্তে সকল মিডিয়া কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা কামনা করে আনোয়ার হোসেন জানান, যদি গত ২ আগস্ট উনি চাঁদা দাবি বা এই অপরাধ করত চিকিৎসাধীন থাকাকালীন পুলিশ কেন আনোয়ারকে গ্রেফতার করে নি??
উনার বিরুদ্ধে দায়ের করা চাঁদা বাজি মামলার বাদী রাজমণি সাহা রাজু গত ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর অবৈধ পিস্তল দিয়ে গুলি করে হত্যা চেষ্টা মামলার এজাহারনামীয় ১ নং আসামী। এই সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার ও তাদের দমাতে পুলিশ নিস্ক্রিয়। পুলিশের সাথে সন্ত্রাসীদের গভীর সখ্যতা। যার প্রেক্ষিতে গাজীপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এত অবনতি।
এবিষয়ে দৈনিক প্রলয় পত্রিকায় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর নানাভাবে হয়রানি ও পুলিশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। গত ৬ আগস্ট সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় সন্ত্রাসীরা ইট দিয়ে উনার পা থেঁতলে দেওয়ার পর অসুস্থ অবস্থায় উনার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে মিথ্যা মামলা। উনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এবিষয়ে জানতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার জাহিদুল হাসানের কাছে জানতে উনার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে উনি জানান, তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।