৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

১২৫ বছরের বন্ধন, আগামী দিনের গ্রন্থন’—কালীগঞ্জে তুমিিলিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের বর্ণিল জয়ন্তী উৎসব”

বাংলা বারুদ
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ণ
১২৫ বছরের বন্ধন, আগামী দিনের গ্রন্থন’—কালীগঞ্জে তুমিিলিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের বর্ণিল জয়ন্তী উৎসব”

Manual4 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার।

Manual7 Ad Code

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ‘তুমিলিয়া বালিকা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর ১২৫ বছর পূর্তি (জয়ন্তী) উৎসব অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

‘১২৫ বছরের বন্ধন, আগামী দিনের গ্রন্থন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনব্যাপী আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানটি বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে পবিত্র খ্রিস্টযাগের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। এরপর আনন্দ র‍্যালি, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে জয়ন্তী ফলক ও জুবিলি ম্যাগাজিন উন্মোচন করা হয়।

Manual6 Ad Code

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ বিজয় এন. ডি’ক্রুজ, (ওএমআই)। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যখন ১২৫ বছর পার করে, তখন তা কেবল একটি দালান থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে একটি জনপদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারক।

এই বিদ্যালয়টি কেবল শিক্ষার আলোই ছড়ায়নি, বরং সমাজ গঠনে এবং আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমি আশা করি, আগামী দিনেও এই প্রতিষ্ঠানটি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করে যাবে।”

Manual1 Ad Code

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাসুদ ভূঁইয়া বলেন, “মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা একটি জাতির ভিত্তি। তুমিলিয়া বালিকা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গত সোয়া শতাব্দী ধরে নারী শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে যে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে তা অতুলনীয়।

সরকারি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং আধুনিক শিক্ষার সাথে তাল মিলিয়ে একে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।”

Manual8 Ad Code

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.টি.এম. কামরুল ইসলাম, প্রাণ গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইলিয়াস মৃধা এবং ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের সহকারী বিশপ সুব্রত বনিফাস গমেজ।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. গোলাম রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সকালের অধিবেশনে ধর্মীয় সম্প্রীতির নিদর্শন হিসেবে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, গীতা ও বাইবেল পাঠ করা হয়। এরপর প্রধান অতিথি প্রদীপ প্রজ্বলন, শান্তির পায়রা ও গ্যাস বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।

বিকেলের সাংস্কৃতিক পর্বে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ছিল নাচ, গান, থিম সং পরিবেশনা এবং ‘মহুয়া সুন্দরী’ নৃত্যনাট্য। এছাড়া ডকুমেন্টারি প্রদর্শন ও লটারি ড্র অনুষ্ঠানের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে তোলে।

বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক সিস্টার মেরী তৃষিতা এসএমআরএ-এর স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে এক আনন্দঘন পরিবেশে।

আয়োজক কমিটির সেক্রেটারি লাকী ফ্লোরেন্স কোড়াইয়া জানান, এই আয়োজন বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, শিক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।