মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: বাংলাদেশের জ্বালানি ও শিল্পখাতে বড় ধরনের ধাক্কার শঙ্কা
শেখ স্বপ্না শিমুঃ মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের জেরে বন্ধ হরমুজ প্রণালী। এর প্রভাবে দেশের জ্বালানি ও উৎপাদনমুখী শিল্পখাতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে বলে শঙ্কার কথা জানিয়েছে এলপিজি আমদানিকারকদের সংগঠন লোয়াব। আর সমুদ্র পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় তৈরি পোশাক রফতানিকারকরা বলছেন, নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের রফতানি আয়েও। শুধু ব্যবসা বাণিজ্যেই নয়, রেমিটেন্স প্রবাহেও বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জনশক্তি রফতানিকারকরা।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত তেলের বেশিরভাগই যায় এশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যায়। আর দৈনিক বিশ্বে দরকারি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশই সরবরাহ হয় পথে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধের জেরে সমুদ্র পরিবহনের এমন গুরুত্ব পথ বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।
এমন সিদ্ধান্তের ফলে দেশের জ্বালানি খাত বড় ধরনের ধাক্কা খেতে যাচ্ছে বলে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, বিকল্পপথ সাশ্রয়ী না হওয়ায় বাড়তে পারে দাম; সরবরাহ সংকট নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে শিল্প উৎপাদন ও দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে।
লোয়াবের সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশীদ বলেন, ‘এই জায়গাটা বিঘ্নিত হলে আমরা কিছুটা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হব। আমাদের উৎপাদনমুখী খাতগুলো বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে।’শুধু উৎপাদনই নয়, পণ্য পরিবহন ব্যহত হওয়ায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে কমতে থাকা দেশের রফতানি আয়েও। এমন শঙ্কা নিট পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র।
বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে যে ক্ষত চলছে, সেটা নতুন করে আরও বাড়বে।’ব্যবসা-বাণিজ্যেই নয়, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে নিরাপত্তাজনিত কারণে বড় ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে প্রবাসী আয়ও।
বায়রার সাবেক সভাপতি গোলাম মুস্তাফা বলেন, ‘ব্যাপক হারে চাকরিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যাদের চাকরি থাকবে, তাদেরও বেতন-ভাতা অনিশ্চিত হতে পারে। ওভার টাইমও না থাকতে পারে। এতে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ভয়ানকভাবে কমে যেতে পারে।’
এ অবস্থায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ আর দূতাবাসের সতর্ক অবস্থান ও তৎপরতায় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত দীর্ঘ হলে বিকল্প নিয়ে পরিকল্পনার তাগিদ অর্থনীতি সংশ্লিষ্টদের