১লা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

উচ্চ সুদ ও জ্বালানি অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগে ধস, অর্থনীতিতে সতর্কসংকেত।

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৮:১৮ অপরাহ্ণ
উচ্চ সুদ ও জ্বালানি অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগে ধস, অর্থনীতিতে সতর্কসংকেত।

Manual3 Ad Code

উচ্চ সুদ ও জ্বালানি অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগে ধস, অর্থনীতিতে সতর্কসংকেত।

শেখ স্বপ্না শিমুঃ ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিনিয়োগ খাত এখন স্থবির বৃত্তে। যার প্রভাব পড়েছে সরকারের রাজস্ব আয়ে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যয় কাঠামোতে পুনর্গঠন প্রয়োজন। একইসঙ্গে রাজস্ব ঘাটতি ও ব্যবসায়িক মন্দাকে অর্থনীতির জন্য সতর্কসংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

শুধু কম মূল্যের শ্রম বিনিয়োগের একমাত্র আকর্ষণীয় নয়। মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণ, পরিবহন ও জ্বালানি , ডলারের বাজার, আমদানি-রফতানি বিধি নিষেধ ও ব্যবসা পরিচালনায় কর ব্যবস্থাপনা বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি করে।

এসব বিবেচনায় ভিয়েতনাম ও ভারত থেকে ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় বেশি বাংলাদেশে। উচ্চ সুদের হারের পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি অনিশ্চয়তা, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতা মিলে দেশের বিনিয়োগ খাত এখন স্থবির বৃত্তে।

বিএনও লুব্রিক্যান্টসের পরিচালক সালাউদ্দিন ইউসুফ বলেন, ‘ব্যাংকের ইন্টারেস্ট রেট হাই এবং অপর্যাপ্ত লজিস্টিক থাকায় খরচ বেড়ে যায়; এসব কিছু মিলে বাংলাদেশের এ ইন্ডাস্ট্রি প্রতিযোগিতা হারিয়ে ফেলছে।’

Manual1 Ad Code

তার সাথে আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় গত এক বছরে পুঁজিবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ২৭০ কোটি টাকা। দেশের শীর্ষ দশ কোম্পানির ৬টিতে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। ২০২৪-২৫ এ বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটিতে (বিডায়) দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন কমেছে ৫৮ শতাংশ।

এক বছরে বন্ধ হয়েছে ১৮২ পোশাক কারখানা। ব্যয় নির্বাহ করতে না পেরে সব খাত মিলিয়ে সংখ্যা আরও বেশি। যার প্রভাব কর্মসংস্থানের বাজারের সঙ্গে পড়েছে রাজস্বখাতেও। তিনবার সময় বাড়িয়েও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি রাজস্বখাত। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা এখন বাড়তি সতর্ক অবস্থায়, তাদের মতে ব্যয় কাঠামোতে পুনর্গঠন প্রয়োজন।

Manual6 Ad Code

আইবিএফবির প্রেসিডেন্ট লুৎফুন্নেসা সৌদিয়া খান বলেন, ‘এটা আমার লক্ষ্যমাত্রা। এখন তুমি কি লক্ষ্যমাত্রা পর্যন্ত উৎপাদন করতে পারবে কিনা, সে অনুযায়ী আমাকে ট্যাক্স দিতে পারবে কিনা! এটা সম্পূর্ণ ভাইসভার্সা সম্পর্ক। সরকারকে ট্যাক্স দিতে আমার কোনো অসুবিধা নেই, কিন্তু সরকারকেও ওই সুযোগ করে দিতে হবে, যাতে আমি ৪০ শতাংশ ট্যাক্স দিতে পারি।’

রাজস্ব ঘাটতি ও ব্যবসায়ীক মন্দা দুটো মিলে জটিল পরিস্থিতিতে পড়তে যাচ্ছে নতুন সরকার। অর্থনীতির জন্য এটি সতর্কসংকেত বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

Manual8 Ad Code

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, ‘ব্যবসার খরচ বেড়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই তখন কর দেয়াটা ব্যবসায়ীদের জন্য কষ্টকর হয়ে যাবে। আর এটা হলে রাজস্ব আয়ের কালেকশন কমে আসবে। তখন ঋণ নির্ভরতা বাড়বে। আর এটা বেড়ে গেলে ট্রেজারি সুদের হারও উপরের দিকে যাবে। এতে করে ব্যাংকিং ল্যান্ডিং ডিপোজিটে ভারসাম্য হারাবে।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু পোশাক খাত এবং রেমিটেন্সের ওপর নির্ভর করে থাকলেই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয় বরং রফতানির ঝুড়ি সমৃদ্ধ করতে পণ্যের বৈচিত্রতা প্রয়োজন বাংলাদেশের।

Manual8 Ad Code